ডাউন’স সিনড্রোম, এডওয়ার্ড’স সিনড্রোম ও পাটাউ’স সিনড্রোম (Bangla)
হালনাগাদ করা হয়েছে 3 জুন 2026
Applies to England
এই ছোট অ্যানিমেশনটি গর্ভাবস্থায় ডাউন সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ডস সিন্ড্রোম এবং পাটাউ সিন্ড্রোমের স্ক্রিনিং সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে।
ডাউন’স সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোম এবং পটাউ’স সিন্ড্রোম
স্ক্রিনিং করানোর উদ্দেশ্য
শিশুটির ডাউন’স সিন্ড্রোম(এটি ট্রিসমি ২১ বা টি২১ নামে পরিচিত), এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোম (ট্রিসমি ১৮/ টি১৮)বা পাটাউ’স সিন্ড্রোম (ট্রিসমি ১৩ / টি১৩) থাকার সম্ভাবনা কতটুকু সেটি জানার জন্য এই স্ক্রিনিং পরীক্ষাটি করা হয়।
স্ক্রিনিং করানো আপনার ইচ্ছা। আপনাকে স্ক্রিনিং পরীক্ষা করতেই হবে এমন নয়। কিছু মানুষ জানতে চান তাদের শিশুর এই ব্যাধিগুলির কোনওটি আছে কি না, আবার কিছু মানুষ জানতে চান না। স্ক্রিনিং নিখুঁত নয় এবং কখনও কখনও এটি ভুল ফলাফল দিতে পারে। এটি আপনার গর্ভাবস্থা নিয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
স্ক্রিনিং-এর সারসংক্ষেপ
স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের একাধিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
প্রথম স্ক্রিনিং পরীক্ষা হিসেবে আপনাকে কম্বাইন্ড বা কোয়াড্রুপল টেস্ট অফার করা হবে। এরপর আপনাকে দ্বিতীয় স্ক্রিনিং পরীক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এটি নন-ইনভেসিভ প্রি-নাটাল টেস্টিং (এনআইপিটি) নামে পরিচিত। এই স্ক্রিনিং পরীক্ষাগুলির যেকোনও একটি করার পর আপনাকে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এটি নিশ্চিত করবে আপনার শিশুর এই ব্যাধিগুলির কোনওটি আছে কি না।
এনএইচএস (NHS) ওয়েবসাইটে ডাউন’স সিনড্রোম, এডওয়ার্ড’স সিনড্রোম ও পাটাউ’স সিনড্রোম সম্পর্কে আরও তথ্য জানুন।
এই রোগগুলোর বিষয়ে
আমাদের শরীরের কোষের ভিতরে এক ধরণের ক্ষুদ্র অবকাঠামো থাকে যাদের ক্রোমোজোম বলা হয়। এই ক্রোমোজোমগুলো জিন বহন করে, আর এই জিন আমরা কীভাবে বেড়ে উঠবো তা নির্ধারণ করে। এই ক্রোমোজোমগুলিতে এমন জিন থাকে যা আমাদের বিকাশ কীভাবে হবে তা নির্ধারণ করে। প্রতিটি কোষে সাধারণত ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। যখন শুক্রাণু বা ডিম্বাণু কোষে তৈরি হয় তখন থেকে সমস্যা শুরু হতে পারে যার ফলে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম নিয়ে একটি শিশুর জন্ম হতে পারে।
যেকোন বয়সের মায়ের শিশুর ডাউন’স সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোম এবং পাটাউ’স সিন্ড্রোম হতে পারে কিন্তু মায়ের বাড়তি বয়সের সাথে শিশুর মধ্যে এই সিনড্রোমগুলোর মধ্যে কোন একটির দেখা দেয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। এগুলোর সবই শরীরের কিছু বা সব কোষে একটি ক্রোমোজোমের অতিরিক্ত কপি থাকার কারণে হয়। শুধুমাত্র কিছু কোষে অতিরিক্ত ক্রোমোজোম থাকাকে মোজাইক ফর্ম বলা হয়। এটি শিশুর ক্ষেত্রে তুলনামূলক হালকা প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। স্ক্রিনিং শনাক্ত করতে পারে না আপনার শিশুর কোন ফর্ম হবে বা ডিজঅ্যাবিলিটির কোন স্তর থাকবে।
ডাউন’স সিন্ড্রোম (টি২১)
ডাউন’স সিন্ড্রোমের ক্ষেত্রে শরীরের প্রতিটি বা কিছু কোষে ক্রোমোজোম ২১-এর একটি অতিরিক্ত প্রতিলিপি থাকে।
ডাউন’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত একটি ব্যক্তির কিছুটা পরিমাণে লার্নিং ডিসঅ্যাবিলিটি থাকবে। এর অর্থ হল নতুন কোন কিছু বোঝা ও শেখা তাদের জন্য অধিকাংশদের তুলনায় কঠিন হবে। পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের ক্ষেত্রে তাদের সামনে কিছু যোগাযোগ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এসে দাঁড়াতে পারে এবং দৈনন্দিন কিছু কাজ কর্ম সামলাতেও অসুবিধা হতে পারে। ডাউন’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত লোকজনদের চোখ, কান ও মুখের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হয় কিন্তু তাদের সবাই কে একরকম দেখতে হয় না।

ডাউন’স সিন্ড্রোম আছে এমন একটি ছোট ছেলে ক্লাইম্বিং ফ্রেমে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার দিকে তাকাচ্ছে
ডাউন’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত অধিকাংশ ছেলেমেয়েরাই মূলধারার প্রাইমারি স্কুলে যায় কিন্তু তাদের অধিকতর সাহায্যের প্রয়োজন হবে। ডাউন’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত লোকজনদের মধ্যে কিছু কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা সচরাচর দেখা যায়। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হৃদপিণ্ডের সমস্যা এবং শ্রবনশক্তি ও দৃষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা। অধিকাংশ স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা করা যেতে পারে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রায় ৫% শিশুরা তাদের প্রথম জন্মদিনের চেয়ে বেশি বাঁচবে না।
কোন মারাত্বক স্বাস্থ্য সমস্যা নেই এমন সকল শিশুদের জীবন কাল অধিকাংশ ছেলে-মেয়েদের সমান হবে এবং ডাউন’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত অধিকাংশ ব্যক্তিরা ৬০ বছর বা তার চেয়েও বেশি বয়স পর্যন্ত জীবন যাপন করবেন।
ডাউন’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত লোকজনেরা একটি ভালো মানসম্পন্ন জীবন যাপন করতে পারেন এবং অধিকাংশ লোকেরা বলেন যে তারা খুবই আনন্দে নিজেদের জীবন যাপন করেন। সাহায্যের সাথে, আরো অনেক বেশি ডাউন’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত লোকজনেরা চাকরি পেতে পারেন, অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হলে খানিকটা স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করতে পারেন।
এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোম (টি১৮)-এবং পাটাউ’স সিন্ড্রোম (টি১৩)
এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের সব বা কিছু কোষে ক্রোমোজোম ১৮’এর একটি অতিরিক্ত প্রতিলিপি থাকে। পাটাউ’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের সব বা কিছু কোষে ক্রোমোজোম ১৩’এর একটি অতিরিক্ত প্রতিলিপি থাকে।
দুঃখজনকভাবে বেঁচে থাকার হার কম এবং যে সকল শিশুরা জীবন্ত জন্মায় তাদের মধ্যে এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত কেবল ১৩% এবং পাটাউ’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত্ত কেবল ১১% তাদের প্রথম জন্মদিনের চেয়ে বেশি লম্বা জীবন যাপন করবে। কিছু কিছু শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে তবে সেটি বিরল।
এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোম ও পাটাউ’স সিন্ড্রোম নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুদের লার্নিং অক্ষমতা থাকবে এবং তাদের নানাবিধ শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে, এই সমস্যাগুলো সাধারণত খুবই মারাত্মক হতে পারে। তাদের হৃদপিণ্ড, শ্বাসযন্ত্র, কিডনি এবং পাচক সিস্টেম নিয়ে তাদের সমস্যা হতে পারে।
পাটাউ’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত অর্ধেক শিশুদের জন্মগত বিকৃত ঠোঁট এবং তালু থাকবে। এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোম ও পাটাউ’স সিন্ড্রোমে আক্রান্ত শিশুদের জন্মের সময় ওজন ও কম হবে।
তাদের সমস্যার সত্ত্বেও, ছেলে-মেয়েরা তাদের বিকাশে ধীরে-ধীরে উন্নতিসাধন করতে পারে। উভয়ের মধ্যে যেকোনো একটি দ্বারা আক্রান্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়েদের একটি বিশেষজ্ঞ স্কুলে যেতে হবে।
ডাউন’স সিনড্রোম প্রতি 10,000 জন্মের মধ্যে 10টিতে ঘটে। এডওয়ার্ডস’ সিনড্রোম প্রতি 10,000 জন্মের মধ্যে 3টিতে ঘটে। পাটাউ’স সিনড্রোম প্রতি 10,000 জন্মের মধ্যে 2টিতে ঘটে।
এনএইচএস কম্বাইন্ড এবং কোয়াড্রুপল স্ক্রিনিং পরীক্ষা
আপনি যদি কম্বাইন্ড টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন, এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- গর্ভাবস্থার 10 এবং 14 সপ্তাহের মধ্যে একটি রক্ত পরীক্ষা
- আপনার শিশুর ঘাড়ের পেছনের তরল পরিমাপ করতে গর্ভাবস্থার 11 এবং 14 সপ্তাহের মধ্যে একটি আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান - এটি নিউকাল ট্রান্সলুসেন্সি (এনটি) নামে পরিচিত
আপনার শিশুর এই অবস্থা থাকার সম্ভাবনা নির্ণয় করতে এই তথ্য আপনার বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। আপনি যদি 14 সপ্তাহের বেশি গর্ভবতী হন, তাহলে কম্বাইন্ড টেস্ট উপযুক্ত নয়। আপনাকে এর পরিবর্তে কোয়াড্রুপল টেস্ট অফার করা হবে। এর মধ্যে গর্ভাবস্থার ১৪ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে একটি রক্ত পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই পরীক্ষা শুধুমাত্র ডাউন সিনড্রোমের জন্য স্ক্রিন করে এবং এটি কম্বাইন্ড টেস্টের মতো সঠিক নয়।
এডওয়ার্ডস সিনড্রোম এবং পাটাউ সিনড্রোমের জন্য আপনাকে ২০-সপ্তাহের স্ক্রিনিং স্ক্যান অফার করা হবে।
পরীক্ষার নিরাপত্তা
স্ক্রিনিং টেস্টটি আপনার বা আপনার সন্তানের কোন ক্ষতি করবে না তবে এই টেস্টটি আপনি করবেন কিনা সেই সিদ্ধান্তটি ভেবেচিন্তে নেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। এই পরীক্ষাটি আপনাকে স্পষ্টভাবে বোলতে পারবে না যে শিশুর ডাউন’স সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোম বা পাটাউ’স সিন্ড্রোম আছে কি না। স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আপনার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দরকার হতে পারে।
স্ক্রিনিং করানো আপনার ইচ্ছা
স্ক্রিনিং করানো আপনার ইচ্ছা। আপনাকে স্ক্রিনিং পরীক্ষা করতেই হবে এমন নয়। কিছু মানুষ জানতে চান তাদের শিশুর এই ব্যাধিগুলির কোনওটি আছে কি না, আবার কিছু মানুষ জানতে চান না। স্ক্রিনিং নিখুঁত নয় এবং কখনও কখনও এটি ভুল ফলাফল দিতে পারে। এটি আপনার গর্ভাবস্থা নিয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আপনি বেছে নিতে পারেন:
- কোনও স্ক্রিনিং না করানো
- ডাউন সিনড্রোম, এডওয়ার্ড’স সিনড্রোম এবং পাটাউ’স সিনড্রোমের জন্য স্ক্রিনিং
- শুধুমাত্র ডাউন সিনড্রোমের জন্য স্ক্রিনিং
- শুধুমাত্র এডওয়ার্ড’স সিনড্রোম এবং পাটাউ’স সিনড্রোমের জন্য স্ক্রিনিং
আপনার একটি শিশু বা যমজ থাকলে এই স্ক্রিনিং অফার করা হবে।
যদি আপনার ভ্যানিশড টুইন গর্ভাবস্থা থাকে, তবে আপনার ধাত্রী বা ডাক্তার আপনার পরীক্ষার বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।
সম্ভাব্য ফলাফল
আপনি যখন স্ক্রিনিং টেস্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখন আপনি যা চেয়েছিলেন তার ওপর নির্ভর করে, আমরা আপনাকে নিচের একটি বা দুটিই দেব:
- ডাউন’স সিনড্রোমের একটি ফলাফল
- এডওয়ার্ডস’ সিনড্রোম এবং পাটাউ’স সিনড্রোমের একটি যৌথ ফলাফল
একটি কম সম্ভাবনা ফলাফল মানে এটি সম্ভাবনা কম, যদিও এখনও সম্ভব, যে আপনার শিশুর স্ক্রিনিং করা ব্যাধিগুলোর কোনওটি থাকতে পারে। বেশিরভাগ স্ক্রিনিং পরীক্ষার ফলাফল কম ঝুঁকি নির্দেশ করে।
বেশিরভাগ মহিলার উচ্চ সম্ভাবনার ফলাফলেও তাদের শিশুর এই ব্যাধিগুলির কোনওটি থাকবে না। কিছু মহিলার একটি ব্যাধির জন্য উচ্চ সম্ভাবনার ফলাফল আসতে পারে এবং শিশুর অন্য একটি ব্যাধি থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার যদি ডাউন সিনড্রোমের জন্য উচ্চ সম্ভাবনার ফলাফল আসে, তবে শিশুর পাটাউ’স সিনড্রোম থাকার সম্ভাবনাও থাকে। সামগ্রিকভাবে, প্রতি ১০০টি স্ক্রিনিং পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে প্রায় ৩টি উচ্চ সম্ভাবনার হয়।
আপনি প্রতিটি ফলাফল সম্ভাবনা হিসেবে পাবেন, উদাহরণস্বরূপ আপনার শিশুর ডাউন’স সিনড্রোম নিয়ে জন্ম নেওয়ার ‘150 এর মধ্যে 1 সম্ভাবনা’ আছে। দ্বিতীয় সংখ্যাটি যত বড় হবে (যেমন 150), আপনার শিশুর এই অবস্থা নিয়ে জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা তত কম হবে। তাই ‘200 এর মধ্যে 1 সম্ভাবনা’ ‘100 এর মধ্যে 1 সম্ভাবনা’ এর চেয়ে কম।
একটি ‘কম সম্ভাবনা’ ফলাফল হলো ১৫১-এ ১ বা তার বেশি সম্ভাবনা (উদাহরণস্বরূপ, ৩০০-তে ১ সম্ভাবনা)। একটি ‘উচ্চ সম্ভাবনা’ ফলাফল হলো সর্বোচ্চ ১৫০-এ ১ সম্ভাবনা (উদাহরণস্বরূপ, ১০০-তে ১ সম্ভাবনা)।
উদাহরণস্বরূপ, ‘300 এর মধ্যে 1 সম্ভাবনা’ বলতে কী বোঝায় তা বুঝতে, 300 জন নারীর একটি দল কল্পনা করুন। এই নারীদের একজন এমন একটি শিশুর সঙ্গে গর্ভবতী থাকবেন যার এই অবস্থা আছে।
পরীক্ষা না করা
আপনি যদি এই ব্যাধিগুলির জন্য স্ক্রিনিং পরীক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে আপনার বাকি অ্যান্টিনাটাল যত্ন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে থাকবে।
আপনার গর্ভাবস্থার সময় যেকোনো স্ক্যানে শিশুর শারীরিক সমস্যাগুলো ধরা পড়তে পারে যেগুলো হয়তো এই রোগগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যদি স্ক্যানে কোনো অপ্রত্যাশিত জিনিস ধরা পড়ে তাহলে আপনাকে অবশ্যই তার বিষয়ে অবহিত করা হবে।
আমার ফলাফল পাওয়া
আপনার স্ক্রিনিং পরীক্ষায় যদি কম সম্ভাবনার ফলাফল আসে, তবে পরীক্ষার ২ সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে জানানো হবে। আপনার স্ক্রিনিং পরীক্ষায় যদি উচ্চ সম্ভাবনার ফলাফল আসে, তবে পরীক্ষার এক সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে জানানো হবে। আপনাকে আলোচনা করার জন্য একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে:
- টেস্টের ফলাফল এবং সেগুলোর অর্থ
- আপনার শিশুর যে অবস্থা থাকতে পারে
- আপনার জন্য যে বিকল্পগুলো বাছাই করার সুযোগ রয়েছে
অধিকতর পরীক্ষা
আপনার যদি কম সম্ভাবনার ফলাফল আসে, তবে আপনাকে আর কোনও পরীক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হবে না। আপনার যদি উচ্চ সম্ভাবনার ফলাফল আসে, তবে আপনাকে প্রস্তাব দেওয়া হবে:
- আর কোনও অতিরিক্ত পরীক্ষা নয়
- দ্বিতীয় স্ক্রিনিং পরীক্ষা (যাকে এনআইপিটি বলা হয়) যাতে ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করবেন কি না তা বেছে নেওয়ার আগে আরও সঠিক স্ক্রিনিং ফলাফল পাওয়া যায়
- একটি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা
আপনার যদি প্রথম স্ক্রিনিং পরীক্ষায় খুব উচ্চ সম্ভাবনার ফলাফল আসে (২-এ ১ থেকে ১০-এ ১ এর মধ্যে), তবে আপনার বিকল্পগুলি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত। এর কারণ হলো এডওয়ার্ড’স সিনড্রোম বা পাটাউ’স সিনড্রোমের জন্য খুব উচ্চ সম্ভাবনার ফলাফল পাওয়া গেলে এনআইপিটি কম সঠিক হয়।
আপনার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারেরা আপনাকে সহায়তা করবেন। আপনার যদি মনে হয় আপনার সিদ্ধান্তগুলোকে সম্মান করা হচ্ছে না, তাহলে আপনার কথা বলা উচিত। সহায়তা সংস্থাগুলো থেকেও তথ্য পাওয়া যায়। যেকোনো স্ক্রিনিং বা ডায়াগনস্টিক টেস্ট থেকে আপনি যে ফলাফলই পান না কেন, এরপর কী করবেন তা সিদ্ধান্ত নিতে আপনাকে সহায়তা ও পরিচর্যা দেওয়া হবে।
নন-ইনভেসিভ প্রি-নাটাল টেস্টিং (এনআইপিটি)
আপনাকে এনআইপিটি নামে একটি দ্বিতীয় স্ক্রিনিং পরীক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে, যার মধ্যে একটি রক্ত পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত।
এনআইপিটি কম্বাইন্ড বা কোয়াড্রুপল টেস্টের তুলনায় বেশি সঠিক, যদিও যমজ গর্ভাবস্থায় এটি ঠিক ততটা সঠিক নয়। এটি আপনার রক্তে ডিএনএ (জেনেটিক উপাদান) পরিমাপ করে কাজ করে। এই ডিএনএ-এর কিছু অংশ শিশুর প্লাসেন্টা থেকে আসবে। ক্রোমোজোম 21, 18 বা 13 থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ডিএনএ থাকলে এর অর্থ হতে পারে যে আপনার শিশুর ডাউন’স সিনড্রোম, এডওয়ার্ডস’ সিনড্রোম বা পাটাউ’স সিনড্রোম আছে।
যদিও, প্রতিটি স্ক্রিনিং টেস্টের মতো, এটি একটি নিশ্চিত উত্তর দেয় না। এনআইপিটি আপনার শিশুর ক্ষতি করতে পারে না। বেশিরভাগ নারী 2 সপ্তাহের মধ্যে তাদের ফলাফল পাবেন।
বেশিরভাগ মহিলার কম সম্ভাবনার ফলাফল আসবে, যার মানে আপনার শিশুর এই ব্যাধিগুলির কোনওটি থাকার সম্ভাবনা কম। আপনাকে কোনো ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করার প্রস্তাব দেওয়া হবে না।
যদি আপনার এনআইপিটি ফলাফলে উচ্চ সম্ভাবনার ফলাফল আসে, তবে আপনার শিশুর এই ব্যাধিগুলির কোনওটি থাকার সম্ভাবনা বেশি। তারপর আপনাকে একটি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার প্রস্তাব দেওয়া হবে, এবং এটি করবেন কি না তা সম্পূর্ণ আপনার সিদ্ধান্ত। অল্প সংখ্যক ক্ষেত্রে, এনআইপিটি কোনো ফলাফল নাও দিতে পারে। এরপর আপনি আরও একটি এনআইপিটি, একটি ডায়াগনস্টিক টেস্ট বা আর কোনো টেস্ট না করার মধ্যে বেছে নিতে পারেন।
ল্যাবরেটরি আপনার এনআইপিটি স্ক্রিনিং নমুনা সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারে। এটি গুণগত মান এবং পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রাখা হয়। আপনি যদি চান না যে আপনার নমুনা রাখা হোক, তবে আপনার স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারকে জানান।
ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা (ক্রনিক ভিলাস স্যাম্পলিং বা অ্যামিনিওসেন্টেসিস)
ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা একটি নিশ্চিত উত্তর দেয়। এগুলি প্লাসেন্টা থেকে কোষ বা আপনার শিশুর চারপাশের তরল পরীক্ষা করে।
ডায়াগনস্টিক টেস্ট কখনও কখনও ডাউন’স সিনড্রোম, এডওয়ার্ডস’ সিনড্রোম বা পাটাউ’স সিনড্রোম ছাড়া অন্য অবস্থাও খুঁজে পেতে পারে। তবে, এটি বিরল।
প্রায় প্রতি ২০০ জন মহিলার মধ্যে ১ জন (০.৫%) যিনি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করান, তিনি পরীক্ষার কারণে গর্ভপাতের সম্মুখীন হন। আপনি ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করবেন কিনা তা সম্পূর্ণ আপনার সিদ্ধান্ত।
২ ধরনের ডায়াগনস্টিক টেস্ট আছে: কোরিওনিক ভিলাস স্যাম্পলিং (সিভিএস) এবং অ্যাম্নিওসেন্টেসিস।
কোরিওনিক ভিলাস স্যাম্পলিং (সিভিএস)
কোরিঅনিক উইলস স্যাম্পলিং (সিভিএস) সাধারণত গর্ভাবস্থার ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে করা হয়। এটা পরে করা যেতে পারে। একটি সূক্ষ্ম সূঁচ, যা সাধারণত মহিলার পেটের (অ্যাবডোমেন) মধ্য দিয়ে প্রবেশ করানো হয়, ব্যবহার করে প্লাসেন্টা থেকে সামান্য টিস্যুর নমুনা নেওয়া হয়। প্লাসেন্টার কোষগুলি স্ক্রিনিং করা ব্যাধিগুলির জন্য পরীক্ষা করা যেতে পারে।
অ্যামনিয়োসেন্টিসিস
অ্যামিনোসেন্টিসিস সাধারণত গর্ভধারণের ১৫ সপ্তাহ পরে করা হয়। সূক্ষ্ম একটি সূচ মায়ের পেটের মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করিয়ে মায়ের জরায়ু থেকে শিশুটিকে ঘিরে থাকা তরলের সামান্য একটু নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তরলে শিশুর শরীরের কোষ থাকে যেটিতে ডাউন’স সিন্ড্রোম, এডওয়ার্ড’স সিন্ড্রোম ও পাটাউ’স সিন্ড্রোম আছে কিনা সেটি পরীক্ষা করা হয়।
ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার ফলাফল
ডায়াগনস্টিক টেস্ট করার পর অল্প সংখ্যক মহিলাদের ক্ষেত্রে দেখা যাবে যে তাদের শিশুর এই রোগগুলোর মধ্যে কোনো একটি রয়েছে। তারপর তাদের কাছে ২টি বকল্প থাকে। কিছু কিছু মায়েরা তাদের গর্ভধারণ অব্যাহত রাখতে চান এবং সমস্যা আক্রান্ত শিশুটির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন, অন্যদিকে কিছু কিছু মায়েরা গর্ভপাত করিয়ে এর অবসান ঘটান।
আপনি যদি এই সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন, স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারেরা আপনাকে সহায়তা করবেন এবং ব্যাধি সম্পর্কে আরও তথ্য দেবেন যাতে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
NHS.UK তে সপোর্ট গ্রুপের বিষয়ে অধিকতর তথ্য এবং বিস্তারিত তথ্য পাবেন।
এই প্রচারপত্রের বিষয়ে
উক্ত ছবি ব্যবহার করার জন্য আমরা ডাউন’স সিন্ড্রোম অ্যাসোসিএশনকে কৃতজ্ঞতা সহ আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।